পড়াশোনা সবসময় সবখানে

ব্রেইন স্ট্রোক কী? কেন হয়? লক্ষণ এবং করণীয় কী?

2019-Apr-12 11:06 AM
ব্রেইন স্ট্রোক

ব্রেইন স্ট্রোক হচ্ছে কোন ব্যক্তির মস্তিকের ব্রেইনের মধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য রক্ত প্রবাহ বন্ধ হওয়া, একে টিআইএ বা ট্রানসিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাকও বলা হয়। অর্থাৎ ব্রেইনের সাময়িক রক্তপ্রবাহের ঘাটতিজনিত অবস্থা থেকে একজন রোগী সাময়িক সময়ের জন্য এ ধরনের ব্রেইন স্ট্রোকের শিকার হতে পারেন।

কারণঃ সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রোগে যারা ভগছেন, নিয়মিত যারা ধূমপান করেন, যাদের পরিবারে স্ট্রোকের ইতিহাস আছে, এমন লোকজনই টিআইএ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে পুরুষদের বয়স ৫৫ বছরের বেশি হলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ব্যক্তির রক্তের সিস্টলিক রক্তচাপ বেশি থাকে তারা অদিক হারে টিআইএর ঝুঁকিতে থাকেন। যেসব কারণে ব্রেইন স্ট্রোক হয় তার সবই টিআইএ হওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে মস্তিকের রক্তনালি সরু হেয় যাওয়া হলো এ প্রধান কারণ।

এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা তথা কায়িক পরিশ্রমে অনভ্যন্ততা ইত্যাদি কারণে সাধারণত মস্তিস্ক, হৃৎপিন্ড অথবা শরীরের অন্য কোনো স্থানের রক্তনালি সরু হয়ে যেতে পারে। এই অসুস্থ রক্তনালির কোনো অংশ থেকে ছুটে আসা কোনো ক্ষুদ্র রক্তের দলা ছুটে এসে যদি ব্রেইনের ধমনী বা রক্তনালিতে আটকে যায় তাহলেই টিআইএ হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হৃৎপিন্ডের অনিয়মিত এবং দ্রুত স্পন্দজনিত রোগ বা এটরিয়াল ফিব্রিলেশনজনিত কারণেও টিআইএ হতে পারে।

চিকিৎসাঃ পিআইএ হলে প্রথমেই রোগীর উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তের চর্বির পরিমাণ কুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হয়। প্রাতমিক রোগ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চিকিৎসক রেগীকে রক্ত পাতলা রাখার প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ সেবনের পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। তবে কোনো ক্ষেত্রে বারবার টিআইএ জনিত স্ট্রোকের শিকার হলে মস্তিস্কের ধমনীর অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। টিআইএ ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার একটি চুড়ান্ত পূবাভাস।

যাদের একবার টিআইএ হয় তাদের এক-তৃতীয়াংশের আবার টিআইএ হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং ১০ শতাংশ রোগীর ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা ব্যাপক। তাই চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি রোগীকে অবশ্যই স্থাস্থ্যকর জীবন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হওয়া যেমন- ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা,উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত হালক্কা পরিম্রম করা, খাবারে পরিমিত লবণ গ্রহণ এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
 

লক্ষণঃ ব্রেইন স্ট্রোক হলে যে উপসর্গগুলো মাসের পর মাস কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সারা জীবনের জন্য স্থায়ী হয়ে যায়। টিআইএ হলে তার উপস্থিতি থাকে মিনিটখানেরকের জন্য, কখনও-সখনও হয়তো-বা পুরো একদিন। হঠাৎ করে সাময়িকভাবে দৃষ্টি হারিয়ে ফেলা, ভারসাম্য হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এসবই টিআইএর প্রধান উপসর্গ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের এক পাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, জিহ্বায় ভারী ভারী বোধ অনুভূত হওয়া- এই লক্ষণ গুলো টিআইএ রোগে আক্রান্ত হলে  দেখা যায়, রোগী এই মূহূর্তেগুলো পার করার পর আবার নিজ থেকেই স্বাভাবিক হয়ে ওঠেন।